অজু কেবল শরীর ধোয়ার নাম নয়, এটি হলো ইবাদতের জন্য আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি। নামাজের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো অজু। সঠিকভাবে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর যোগ্যতা অর্জন করি।
অজুর ফরজসমূহ
পবিত্র কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী অজুর চারটি কাজ করা বাধ্যতামূলক (ফরজ)। এর যেকোনো একটি বাদ পড়লে অজু হবে না:
- সমস্ত মুখমণ্ডল একবার ধৌত করা।
- উভয় হাত কনুইসহ একবার ধৌত করা।
- মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসাহ করা।
- উভয় পা টাখনুসহ একবার ধৌত করা।
ধাপে ধাপে অজুর পূর্ণাঙ্গ নিয়ম
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাত অনুযায়ী সম্পূর্ণ অজুর ধারাবাহিকতা নিচে দেওয়া হলো:
- নিয়ত ও বিসমিল্লাহ: মনে মনে অজুর নিয়ত করা এবং ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করা।
- হাত ধোয়া: কবজি পর্যন্ত দুই হাত তিনবার ধোয়া এবং আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে পানি পৌঁছানো।
- কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া: তিনবার কুলি করা এবং তিনবার নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা।
- মুখ ধোয়া: কপালের ওপরের চুল থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত পুরো মুখ তিনবার ধোয়া।
- কনুইসহ হাত ধোয়া: প্রথমে ডান হাত ও পরে বাম হাত কনুইসহ তিনবার ধোয়া।
- মাসাহ করা: ভেজা হাত দিয়ে পুরো মাথা একবার মাসাহ করা। এরপর তর্জনী দিয়ে কানের ভেতর এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের পিঠ মাসাহ করা। শেষে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ঘাড় মাসাহ করা।
- পা ধোয়া: সবশেষে দুই পা টাখনুসহ তিনবার ধোয়া (প্রথমে ডান এবং পরে বাম)।
💡 হাদিস শরিফ: “যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করবে, তার শরীর থেকে গুনাহগুলো বের হয়ে যাবে, এমনকি তার নখের নিচ থেকেও।” (সহীহ মুসলিম)
অজু ভঙ্গের কারণসমূহ
নিচের কাজগুলো করলে অজু ভেঙে যায় এবং পুনরায় অজু করা আবশ্যক হয়ে পড়ে:
- প্রস্রাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।
- শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।
- মুখ ভরে বমি করা।
- চিৎ হয়ে, কাত হয়ে বা কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া।
- পাগলামি বা বেহুঁশ হওয়ার মাধ্যমে জ্ঞান হারানো।
- নামাজের মধ্যে উচ্চস্বরে হাসা (যা পাশের লোক শুনতে পায়)।