যাকাত ইসলামের পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের অন্যতম। এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘পবিত্রতা’ এবং ‘বৃদ্ধি’। যাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনীরা তাদের সম্পদ থেকে অভাবীদের হক আদায় করে, যা একদিকে যেমন সম্পদকে পবিত্র করে, তেমনি সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
যাকাত কার ওপর ফরজ? (নিসাবের পরিমাণ)
প্রত্যেক মুসলিম যদি তার প্রয়োজনীয় ব্যয়ের অতিরিক্ত ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং সেই সম্পদ তার কাছে এক চন্দ্র বছর (হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী) স্থায়ী হয়, তবে তার ওপর যাকাত প্রদান করা ফরজ।
- নিসাব: সাধারণত ৭.৫ তোলা (৮৭.৪৮ গ্রাম) সোনা অথবা ৫২.৫ তোলা (৬১২.৩৬ গ্রাম) রূপা অথবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক পণ্য থাকলে যাকাত ফরজ হয়।
- ঋণ বিয়োগ: যাকাত হিসাব করার সময় আপনার মোট সম্পদ থেকে প্রদেয় ঋণ বিয়োগ করতে হবে।
যাকাত হিসাব করার নিয়ম
যাকাতযোগ্য সম্পদের মোট মূল্যের ২.৫ শতাংশ (২.৫%) অথবা প্রতি ৪০ টাকার ১ টাকা যাকাত হিসেবে দিতে হয়।
সহজ হিসাব পদ্ধতি:
যাকাত কাদের দেওয়া যাবে?
পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাকাতের খাতের আটটি নির্দিষ্ট শ্রেণির কথা বলা হয়েছে:
- ফকির: যাদের সামান্য সম্পদ আছে কিন্তু তা জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট নয়।
- মিসকিন: যারা চরম অভাবী এবং অন্যের কাছে হাত পাততেও পারে না।
- যাকাত কর্মচারী: যারা যাকাত আদায় ও বন্টনের কাজে নিয়োজিত।
- নওমুসলিম: যাদের হৃদয় ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার প্রয়োজন।
- দাসমুক্তি: দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য।
- ঋণগ্রস্ত: যারা ঋণের চাপে জর্জরিত এবং তা পরিশোধে অক্ষম।
- ফী-সাবিলিল্লাহ: আল্লাহর পথে জেহাদ বা ইসলামের কল্যাণে নিয়োজিত কাজে।
- মুসাফির: বিপদে পড়া প্রবাসী বা পর্যটক যারা নিজ দেশে ফেরার সামর্থ্য হারিয়েছে।
যাকাত কাদের দেওয়া যাবে না?
শরিয়ত অনুযায়ী কিছু মানুষকে যাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ, কারণ তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আপনার ওপর:
- নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি (ঊর্ধ্বতন বংশধর)।
- নিজের সন্তান, নাতি-নাতনি (নিম্নতন বংশধর)।
- স্ত্রীকে (স্বামী তার স্ত্রীকে যাকাত দিতে পারে না)।
- অমুসলিমদের (তবে তাদের সাধারণ দান বা সাদাকা দেওয়া যায়)।
- ধনী ব্যক্তিদের (যাদের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে)।